Home

  • গল্পের শুরু

  • My Pages~আমার পাতা

                        ওনিগেট
                 (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
    
                      সুভাষ চ্যাটার্জি
    
    
         গ্রামের চৌমাথায় হারু মাষ্টারের বাসার সামনেই গ্রামের লোকদের একটা জটলা। কিছুক্ষণ আগেই পুলিশের গাড়ি এসে হারু মাষ্টারকে নিয়ে গেছে। সেই নিয়ে আলোচনা চলছে।
         একজন বললে,‘আহা, হারু মাষ্টার নোক বড় ভালো ছিল গা। সে নোক এমন কী করলে যে পুলিশে নে গেল?’
         ‘শুনলাম তো মাষ্টার নাকি  ওনিগেট হইছে।’
         ‘ সেটা আবার কি গা? কোন্ পাটি? ইটা তো কুনোদিন শুনি নাই। জঙ্গল পাটি শুনছি; লাল, লীল, হলুদ-- কত্ত রঙের পাটি। ইটা আবার কোন্ রঙের গা?’
         ‘ আমি কি আর অত্তসব জানি ? আমি বাপু মুখ্যু সুখ্যু মানুষ। অই তো হেডমাস্টরটা ইদিক পানেই আইসছে, তা উয়ারেই জিগাও না।’
          হারু মাষ্টারের প্রাথমিক স্কুলের হেডমাস্টার এসে পৌঁছাতেই তাকে চারপাশ থেকে সকলে ঘিরে ধরে।
          ‘আজ্ঞে, আপুনি আমাদের বলেন তো হারু মাষ্টরের দোষটা কী।সে নাকি ওনিগেট পাটি ছেল? পুলিশ তাকে ধরলে কেন?’
    হেডমাস্টার চারদিকে একবার দেখে নিয়ে বললেন,‘ এদের নিয়ে তো মহা মুস্কিলে পড়লাম। কী করে যে বোঝাই! আরে বাবা, সে সব পার্টি-ফার্টি কিছু না। পুলিশ হারুবাবুকে অ্যারেস্ট করে নি।ওকে সম্মানের সঙ্গে পৌঁছে দিতে গেছে।’
          ‘তবে যে শুইনলাম, মাষ্টর ওনিগেট হইছে?’
           ‘আরে বাবা, ওনিগেট না, ওনিগেট না; কথাটা হলো গিয়ে ‘ও নেগেটিভ’।ওটা কোন পার্টি না; ওটা হচ্ছে, হারু বাবুর রক্তের গ্রুপ, মানে ধরণ।’
           ‘ তার মানে কি হারু মাষ্টরের রক্ত আলাদা? আমাদের মতো লাল লয়?’
           ‘ আ-হা-হা, তা কেন হবে? রক্ত তো সকলেরই লাল।তবে তার মধ্যেও আলাদা আছে। কারো অ্যাক্সিডেন্ট বা অপারেশন হলে হাসপাতালে তো রক্ত দেয়।তা  সবার রক্ত কি সবাইকে দেয়া যায়?’
           ‘ঠিক, ঠিক। মোড়লের ছেলাটার অ্যাক্সিডেন্টের পরে হাসপাতালে যখন আমরা রক্ত দিতে গেলাম, তখন ওরা তো বেছে বেছে যার রক্ত মিল হইছিলো, তারটাই নিছে।’
           ‘হ্যাঁ, এটাই আসল কথা। হারু মাষ্টারের রক্ত হলো গিয়ে ও নেগেটিভ। ওর রক্ত দিল্লীর এক বড় মন্ত্রীর রক্তের সাথে মিলে গেছে। দেশের মন্ত্রী বলে কথা! তাঁর জীবনের কত দাম! আবার বিপদও কম নাকি? কত শত্রু আছে। এখানে ওখানে যেতেও তো হয়। হারুবাবুকেও সঙ্গে যেতে হবে।কোন অঘটন ঘটলে প্রয়োজনে রক্ত দিতে হবে।আর না হলে খাও-দাও আর মন্ত্রীর সাথে গাড়ীতে ঘুরে বেড়াও।’
           ‘তা ইটা কি একটা চাকরি হোলো? ইয়ার জন্যি টাকা পাবেক?’
           ‘তা পাবে না? ‘মাষ্টারীর থেকে অনেক বেশি টাকাই পাবে। খাতিরও বেশি পাবে, মন্ত্রীর কাছের লোক বলে কথা।’
          ‘সে নয় বুইঝলাম।কিন্তুক ইটা কি করি জানা গেল যে গোটা দেশে হারুমাষ্টর আর মন্ত্রীর রক্ত এক? আর আমাদের এই ছোট্ট গাঁয়ের মধ্যি থেকে উয়ারা মাষ্টারকে খুঁজে পাইল কেমনে?’
          ‘ঠিক কতা, ঠিক কতা।’
          ‘আরে বাবা, ক‘দিন ধরেই তো সরকার থেকে রেডিওতে প্রচার চলছিল। ও নেগেটিভ রক্তের লোকদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল।জোয়ান বয়স, সুঠাম স্বাস্থ্যও তাদের থাকতে হবে। তা হারুবাবুর সেসবই ছিল।আগে রক্তদানও করেছে; তাই রক্তের গ্রুপও জানত।ব্যস, রেডিও থেকে ফোন নম্বর নিয়ে নিজেই যোগাযোগ করেছে।’
         ‘কিন্তুক মাষ্টরবাবু, একখান কতা। মন্ত্রীর যদি এদিক ওদিক কিছু হয়ি যায়,তকন  কি হবে?’
         ‘তখন হারুবাবু আবার এখানে চলে আসবে। ওর স্কুলের চাকরি তো ধরাই আছে। চাকরি তো চলে যায় নি। শুধু যতদিন মন্ত্রীর কাছে থাকবে, স্কুল থেকে মাইনে পাবে না।ওর জায়গায় ততদিন অন্য কেউ কাজ করবে।’
    
    তো এই হোল হারু মাষ্টারের আজকের গল্প।
    
           দু’পাশের আদিগন্তবিস্তৃত সবুজ মাঠের বুক চিরে কালো পিচের রাস্তায় দুরন্ত গতিতে  ছুটে চলেছে পুলিশের জীপ হারাধন ঘোষ ওরফে হারু মাষ্টারকে সওয়ারী করে। সঙ্গী পুলিশ কর্মীরা শশব্যস্ত, যাতে হারু মাষ্টারের বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়।হারু উদাস চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। দু’পাশের মাঠঘাট, গাছপালা ক্রমশঃ পিছনে সরে সরে যেতে থাকে।তার সঙ্গে তার মনটাও ক্রমশঃ পিছোতে থাকে। মায়ের কথা, বাড়ীর কথা বেশি করে মনে হতে থাকে। মধ্য কোলকাতার ঘিঞ্জি পাড়াটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ছোটবেলায় গলির ভেতর ক্রিকেট খেলা, তারপর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারা– বেশ কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। পড়াশোনায় তেমন ভালো না হলেও খেলাধূলায় বন্ধুদের মধ্যে সেরা ছিল। বন্ধুরা হারুকে বলত হিরো। মেঘে মেঘে যেমন বেলা বাড়ে,সেরকম করে বয়সটাও আস্তে আস্তে বেড়ে  গেল। বন্ধুরা সব চাকরি জোগাড় করে এদিক সেদিক চলে গেল। কিন্তু, কী আশ্চর্য! হারুর ভাগ্যে আর শিকে ছেঁড়ে না। বন্ধুরা ছুটিতে বাড়ি এলে হারুর সাথে দেখা হয়। ওরা ঠাট্টা করে হারুকে বলে,‘খেলার মাঠের হিরো চাকরীর বাজারে হেরো হয়ে গেল!’ কেউ ফোড়ন কাটে,‘‘হিরো থেকে জিরো!”। কেউবা বলে,‘হারু হীরে ধারণ কর, তবে যদি ভাগ্য ফেরে’। হারু নীরবে সব সহ্য করে।ও কী করবে ভেবে পায় না।ও নিজেও জানে, ও পড়াশোনায় তত ভালো না। খুব বড় চাকরি ওর জুটবে না। তাই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন বেরোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু,কি এক অজানা কারণে হয়ে হয়েও হয় না। শেষমেষ তিন বারের চেষ্টায় হলো, কিন্তু পোষ্টিং পেল বাড়ী থেকে তিন শো কিলোমিটার দূরে এই গণ্ডগ্রামে। স্কুল ছুটির পর অখণ্ড অবসর। নিজের খাওয়ার ব্যবস্থা তাই নিজেই করে। তারপর, রেডিও চালিয়ে গান, খবর শোনা।
         
             অবশেষে, এই সরকারী ঘোষণা শোনামাত্র হারুর মনে হোল, এইবার হয় তো তার ভাগ্যের দরজা খুলবে।দেরী না করে বিজ্ঞাপনের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে ফেলে। তারপর সদর হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ডাক। স্বপ্নের মতো ক'টা দিন কেটে গেল; আর আজ সে ছুটে চলেছে নতুন দিনের সন্ধানে– যার অপেক্ষায় সে এতদিন বসেছিল।
      
            এই মুহূর্তে মায়ের কথা হারুর খুব মনে পড়ছে। একবার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলা দরকার। কিন্তু মাকে বলা যাবে না যে, রক্ত দেওয়ার চাকরি পেয়েছে সে। মা শুনলে ভয় পেয়ে যাবে। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে মাকে ফোন করে হারু।ওপাশ থেকে মায়ের গলা শুনতে পেলো,‘কিরে, এমন অসময়ে ফোন? শরীর ভালো আছে তো?’
           ‘হ্যাঁ মা, ভালো আছি। তোমাকে একটা খবর দেওয়ার ছিল, আমি এখন দিল্লী যাচ্ছি।’
          ‘কেন রে? হঠাৎ দিল্লী কেন?’
          ‘একটা নতুন চাকরিতে যোগ দিচ্ছি। মন্ত্রীর এসিস্ট্যান্ট।’
          ‘ওসব রাজা-মন্ত্রী শুনেই তো ভয় লাগছে।কাজটা ভালো তো? দেখিস বাবা।’
          ‘আরে, না,না – ভয়ের কিছু নেই।তবে হয়তো অত শিগগির বাড়ী আসতে পারব না। চিন্তা কোরো না। দিল্লী পৌঁছে আবার ফোন করব।’
         
          দিল্লী পৌঁছে হারু দেখল সুন্দর, ছোট, সাজানো এসি ফ্ল্যাটে তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। মন্ত্রীর বাড়ী থেকে খুব বেশি দূরে নয়। মন্ত্রী দিল্লীতে থাকলে সে নিজের ঘরেই থাকতে পারে; আশেপাশে কোথাও যেতে হলে জানিয়ে যেতে হবে।তবে মন্ত্রীর দপ্তরে হাজিরা দিলে দুপুরের খাবারটা ফ্রিতে হয়ে যাবে। ব্যাপারটা মন্দ নয়। আরামের চাকরি।
        
          মন্ত্রীর অফিস, বাংলোয় আসা-যাওয়া করতে করতে অফিসের লোকজন, নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্যদের সঙ্গে হারুর বেশ ভালই আলাপ-পরিচয় হয়ে গেল। এখন আর কথায় কথায় পাশ, পরিচয় পত্র দেখাতে হয় না।
         
           এমনি করেই দেখতে দেখতে একটা বছর পার হয়ে গেল। মন্ত্রীর কোন মারাত্মক অসুস্থতা হয় নি।হারুরও এই এক বছরে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে নি। সামনে দূর্গা পূজো; হারুর মনটা বাড়ী ফেরার জন্য উসখুস করতে থাকে। ছুটির জন্য সেক্রেটারির কাছে একটা দরখাস্ত জমা দিল।উনি বললেন, ‘‘দাঁড়াও ভাই, আগে স্যারের প্রোগ্রামগুলো দেখে নি।” তারপর কাগজপত্র ঘেঁটে বললেন,‘‘তোমার  পূজোর আগে আগে স্যার ফরেন ট্যুরে যাবেন; ফিরবেন দেওয়ালির আগের দিন”।হারু কাঁচুমাচু মুখে বলল,‘‘ তাহলে কি আমি ছুটি পাব না?” সেক্রেটারি অভয় দিয়ে বললেন,‘‘আহা পাবে না কেন? বিদেশের হাসপাতালে সব রকম রক্তের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকে। তোমার রক্তের কোন প্রয়োজন হবে না।তুমি ঐ সময় ছুটি নিতে পারবে। আমি মঞ্জুর করে দেব।” হারু যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল।
          
            পূজোর এখনও প্রায় দু‘মাস বাকী। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে হারু তাড়াতাড়ি মাকে ফোন করে বলল,‘‘ মা, পূজোয় বাড়ি আসছি।বাবাকে বলো যেন সিমেন্ট, বালির দোকানে কথা বলে মিস্ত্রী লাগিয়ে বাড়ির যেখানে যা দরকার সারিয়ে নেয়। আমি গিয়ে সব টাকা দোকানে দিয়ে আসব। আর পূজোর আগে ঘরগুলো সব রং করে নিও।আর শোনো, পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে বলবে, আমি আসছি।”
           
            মুখে মুখে পাড়ায় খবর ছড়িয়ে গেল, হারু পূজোয় বাড়ি আসছে।
    পাড়ার ক্লাবের মাতব্বরদের মধ্যে হারুর কয়েকজন বন্ধুও আছে। তারা বলল, ‘‘হারু তো এখন পাড়ার ভিআইপি। ওকে একটা গ্র্যান্ড রিসেপশন দিলে কেমন হয়? ঠাকুর বিসর্জনের পর তো প্যান্ডেলটা খালিই থাকবে l” সিদ্ধান্ত নেয়া হল, বিজয়া দশমীর পর দিন হারুকে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে।
             
           পঞ্চমী পূজোর দিন হারু কোলকাতায় এলো।পাড়াটা পুজোয় বেশ জমজমাট চেহারা নিয়েছে। নতুন রঙ করা হারুদের বাড়িটা দূর থেকেই বেশ ঝকঝক করছে।হারু মা-বাবা দু‘জনকেই চমকে দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। ঘরগুলোও নতুন রঙে চকচক করছে।বাড়ীতে হৈ হৈ পড়ে গেল।মা আজ ওর পছন্দের আলু পোস্ত, মৌরলা মাছের ঝাল রান্না করেছে। হারু স্নান-টান সেরে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে পড়ল।বন্ধুরা যারা বাইরে চাকরি করে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ পূজোয় বাড়ি এসেছে।সবাই মিলে বেশ জমাটি আড্ডা হল।
              
            পূজোর কটা দিন বাড়িতে,পাড়ায় হৈ-হুল্লোড়ে কাটল।একাদশীর সন্ধ্যায় খালি পূজামন্ডপে হারুর সম্বর্ধনার আয়োজন হয়েছে।বিকেল তিনটে থেকে মাইকে ঘোষণা চলছে।বন্ধুরা হারুকে বলল, ‘‘ভালো করে সেজেগুজে আসবি”। হারু সলজ্জভাবে বলল,‘‘একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?” কিন্তু ওর কথায় কেউ গুরুত্ব দিল না।
              
            সন্ধ্যে সাতটায় অনুষ্ঠান শুরু হল। হারু, ওর বাবা-মা, পাড়ার বন্ধুরা, কচিকাঁচা ও অন্যান্য পরিচিতরা দর্শকাসনে হাজির।পাড়ার ছোট্ট একটি মেয়ে উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইল।ক্লাবের সেক্রেটারি হারুকে মঞ্চে ডেকে নিলেন। সেক্রেটারি তার ভাষণে বিগলিত হয়ে বললেন,‘‘ হারু আমাদের পাড়ার গর্ব।হারু আজ শুধু হীরো নয়, হীরে হয়ে আমাদের মধ্যে এসে আমাদের ধন্য করেছে।” হারু অবাক হয়ে ভাবতে লাগল,‘‘ চাকরি পাওয়ার আগে আমার বেকার দশাকে এরাই বিদ্রুপ করে আমাকে ডাকতো হেরো !” অনুষ্ঠান শেষে হারুর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সকলের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল।
        
             দেখতে দেখতে হারুর ছুটির দিনগুলো শেষ হয়ে গেল। হারু আবার দিল্লি ফিরে গেল। মন্ত্রী মশায়ও ফিরে এলেন। আবার গতানুগতিক সব কিছু চলতে লাগল। কিন্তু বিধাতা পুরুষ বোধহয় হারুর কপাল লিখন অন্য রকম লিখেছেন।
          
            মন্ত্রীর গাড়ী এক প্রচণ্ড দুর্ঘটনায় পড়ল। পাশের রাস্তা থেকে এসে একটি বড় গাড়ি দুরন্ত গতিতে মন্ত্রীর গাড়িতে ধাক্কা মারল।মন্ত্রী সাংঘাতিক আহত হলেন। কনভয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স সাথে সাথেই মন্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। হারু ও আর একজন রক্তদাতাকেও অন্য গাড়ীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। হাসপাতালে হারুর রক্ত নেওয়া হল। কিন্তু সে রক্ত আর মন্ত্রীকে দেওয়ার সুযোগ হল না। মন্ত্রীর জীবনদীপ নির্বাপিত হল। একই সাথে হারুর দিল্লির চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে গেল।
    
            প্রায় তিন বছর বাদে হারু আবার চলেছে সেই গণ্ডগ্রামে, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হারু মাষ্টার প্রথম চাকরি জীবন শুরু করেছিল।হাইওয়ে ধরে হারুর বাস ছুটে চলেছে সেই ছোট্ট অখ্যাত গ্রামের দিকে। হারুর মনে হল যেন দু‘পাশের ঘন সবুজ গাছপালাগুলো ওকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।হারু বাস থেকে নেমে হেঁটে আসতে আসতেই চারপাশের আকাশ বাতাস কচিকাঁচাদের উল্লাস ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল,‘‘হারুমাষ্টার ফিরে এসেছে”।
    
            দিল্লির কোলাহল ও দূষণ থেকে অনেক অনেক দূরে গ্রামের শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে ফিরে এসে গ্রামের নির্মল বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে হারু মাস্টারের মনে হল, “উঃ, কি শান্তি !” ।
                           —০০০—
    
    
    

  • আমার পাতা

    কবিতা-১

  • Hello World!

    Welcome to WordPress! This is your first post. Edit or delete it to take the first step in your blogging journey.